বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশালের মুলাদীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিএনপি কর্মী সলিম হাওলাদারকে হত্যার অভিযোগে ৮ বছর পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী মোস্তফা হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, ইউপি নির্বাচনের জেরে বন্দুকযুদ্ধের নামে সলিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় মামলা করতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাড়ি ফিরেছেন এবং আদালতে ভাই হত্যার মামলা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের মুলাদীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী সলিম হাওলাদার হত্যার অভিযোগে আট বছরের অধিক সময় পর অজ্ঞাত নামধারীসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আনা হয়েছে। যে অভিযোগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নালিশি মামলা করেন নিহতের ভাই মোস্তফা হাওলাদার। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমাইয়া রেজবী মৌরি নালিশি অভিযোগ এজাহার হিসেবে রুজু করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুলাদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন করে বিএনপি কর্মী সলিম হাওলাদার। এতে এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়। নির্বাচনের পর ২০১৬ সালের ১ জুন সলিম ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে আসে। সফিপুর লঞ্চঘাট থেকে সকালে বাড়ি ফেরার পথে সফিপুর গ্রামের ৪০-৪৫জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা করে। পরে সলিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়। পথচারীরা সলিমকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যদিও তৎকালীন মুলাদী ওসি মতিউর রহমানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের সূত্র বলছে, র্যাব-১০ এর একটি দল মঙ্গলবার (২০১৬ সালের ৩১ ম) ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন খোলামোড়া বাজার থেকে সলিমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ঢাকা থেকে সলিমকে মুলাদীতে নিয়ে আসা হয়। পরদিন বুধবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে সলিমের স্বীকারোক্তি মতে উত্তর পাতারচর এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এক পর্যায়ে গোলাগুলি বন্ধ হয়ে গেলে সলিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে পাইপগান, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন, এসআই কমল ও কনস্টেবল পারভেজসহ ৩ জন আহত হন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply